Surprising Benefits of Exercise

Physical Exercise Is Going To Boost Your Cardiovascular Health.

Keeping Smile!

When someone is rude, keep a smile on your face. When you stay on the right road and keep your joy, you take away their power.

Yoga postures to relieve menstrual cramps

Many women suffer abdominal cramps during their menstrual cycles. At times, the cramps are combined with shooting or burning sensations in the lower abdomen. Nausea is also common during periods in females.

Health Benefits of Running

The health benefits of running include weight loss, a youthful appearance, prevention of muscle and bone loss, growth hormone enhancement, the prevention of stroke, diabetes, and hypertension. It also lowers high cholesterol level, improves blood clotting, boosts the immune system, reduces stress, and enhances mood.

Showing posts with label মানসিক সমস্যা. Show all posts
Showing posts with label মানসিক সমস্যা. Show all posts

Monday, July 14, 2014

মাদকের ভয়াবহতা!

"একটি পাত্রে একটি ব্যাঙ নিয়ে তাতে পানি দিয়ে গরম করতে শুরু করুন। পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ব্যাঙটি তার শরীরের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য করতে শুরু করবে। যতই বাড়বে ততোই পানির তাপমাত্রার সাথে নিজের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য করতে থাকবে।



ঠিক যখন পানি ফোটার তাপ মাত্রা সর্বোচ্চ পৌঁছবে তখন আর সে ওই তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে পারবে না।

ওই তাপমাত্রায় সে লাফ দিয়ে পাত্রের বাইরে আসার জন্য চেষ্টা করবে। কিন্তু সে তা আর পারবে না, কারণ সে তার সকল শক্তি পানির তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে ব্যয় করে ফেলেছে। এর খুব অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাঙটি মারা যাবে।

ব্যাঙটি কেন মারা গেল?
অনেকেই উত্তর দিবেন পানির উচ্চ তাপমাত্রার জন্য।

কিন্তু ব্যাঙটি মারা গিয়েছে এই কারণে যে, কখন লাফ দিয়ে বের হতে হবে সঠিক সময়ে তার সিদ্ধান্তে না আসতে পারার জন্য।"

চাতুর্যপূণ, বিভ্রান্তিকর ও প্রচন্ড শক্তিশালী মাদক অনেকের অবস্তা এই ব্যাঙের মতো করে ফেলে।

মানুষ এবং ব্যাঙের রয়েছে অসাধারণ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। শুরুতে মাদকাসক্তরা বুঝেই উটতে পাররনা মাদকের ভয়াবহতা।

তারা মনে করে সবকিছু ম্যানেজ করে মাদক নেওয়া অব্যাহত রাখতে পারবে কিন্তু একটা পর্য়ায়ে তা আর সম্ভব হয়ে উঠে না। ততদিনে মাদক তাদের শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু করে ফেলে।

এ্যাডিকশন চক্র থেকে বেরিয়ে আসার শক্তি ততদিনে তারা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের পরিণতি এই ব্যাঙের মতো হয়।

ভাইয়ারা আমার আপনাদেরকে সিদ্ধান্তে নিতে হবে কখন আপনারা মাদকের এই ভয়াল চক্র থকে বেরিয়ে আসবেন।

[আপনাদের সুখী জীবন আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।]

Tuesday, October 29, 2013

আলঝেইমার’স ডিজিজ (Alzheimer’s Disease)

মানুষ বৃদ্ধ হলে স্মরণ শক্তি কমে যায় (Dementia) এটা আমাদের মাঝে খুবই প্রচলিত একটি ধারণা ধারনাটা যে খুব একটা ভুল তাও কিন্ত নয় ৪৫ বৎসর বয়সের পর বিশাল অংশের একদল লোকের স্মরণ শক্তি কমে যেতে শুরু করে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে সব কিছু ভুলে যাবার প্রবণতাও এই ধরণের বুদ্ধিবৈকল্য বা স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়ার কারণ যে সকল রোগ তার প্রধান রোগটির নাম আলঝেইমারস রোগ ১৯০৬ সালে জার্মান মনোচিকিৎসক অ্যালয়েস আলঝেইমার (Alois Alzheimer) সর্বপ্রথম এ রোগটির বর্ণনা দেন, আর তার নাম অনুসারেই এ রোগের এমন নাম রাখা হয়


এ রোগের সঠিক কারণ কি তা কিন্ত এখন ও জানা যায়নি তবে সাম্প্রতিক গবেষনা গুলো দাবী করছে; যে সকল উপাদান বা নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmiter) এর আদান প্রদান এর মাধ্যমে মস্তিস্ক তাদের কার্য সম্পাদন করে তাদের সমস্যার কারণেই এই রোগটি হয়ে থাকে পরিসংখান অনুযায়ী শতকরা ১৫ ভাগ রোগীই এ রোগে আক্রান্ত হন পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে (Familial Inheritance), আর শতকরা ১ থেকে ৫ শতাংশ রোগের কারন হলো জেনেটিক (Genetic) এ রোগ হলে মস্তিস্কের পরিমান ছোট (Atrophy) হয়ে আসতে থাকে, বিশেষ করে সেরিব্রাল কর্টেক্স (Cerebral Cortex) এবং হিপোক্যাম্পাস (Hippocampus) উল্লেখযোগ্য ভাবে আকারে কমতে Atrophy) থাকে

আগেই বলেছি আলঝেইমারস রোগ হলে রোগীর স্মৃতি শক্তি কমে যেতে শুরু করে রোগী সাম্প্রতিক (Short Term) এবং অতীত (Long Term) দুই ধরণের স্মৃতিই বিস্মৃত হয়ে যান, যদিও সাম্প্রতিক ঘটনা গুলো ভুলে যাবার হারটাই অধিক এছাড়া এ সকল রোগীর মাঝে দ্বিধা (Confusion), খিটখিটে স্বভাব (Irritation), উদ্ধ্যত ভাব (Aggression), বিষন্নতা-অবসাদ, বাকশক্তিহীনতা বা অন্যের কথা বোঝার ক্ষমতা লোপ পাওয়া (Aphasia) সহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয় দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তিনি তার এই সমস্যা গুলো বুঝতে পারেন না এমন কি তার মনে এ বিশ্বাস জন্মায় যে তার এ ধরনের কোন সমস্যাই নেই এর ফলে অনেক সময়ই ব্যক্তিটি পারিবারিক ভুলবোঝাবুঝির শিকার হন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে তার একটি বৈরি সম্পর্ক তৈরী হয়; ফলস্বরূপ তিনি চরম একাকীত্বে ভুগতে থাকেন

এমন রোগ হলে পরিবারের প্রবীণ সদস্যটিকে একজন নিউরোবিশেষজ্ঞের নিকট নিয়ে যাওয়া উচিত সাধারণত চিকিৎসক সাহেব রোগীর ইতিহাস জেনে এবং তার আত্মীয়দের সাথে কথা বলেই রোগটি নিশ্চিত করতে পারেন তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় সিটি স্ক্যান (CT Scan), এম-আর-আই (MRI), স্পেক্ট (SPECT-Single Photon Emission Computed Tomography), পেট স্ক্যান (PET-Positron Emission Tomography) এসব পরীক্ষা করে অনেক সময় নিশ্চিত হতে হয় রোগীর এর সাথে মস্তিস্কের অন্য কোন রোগ আছে কিনা

দুর্ভাগ্যজনক হলো আলঝেইমার রোগের এখনো সঠিক কোন চিকিৎসা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়ে উঠেনি তবে পরিবারের আপনজনেরা সহানুভুতিশীল হলে এবং সহমর্মিতা সহ ব্যক্তিটিকে একটি সঠিক স্নেহময় পরিবেশ তৈরী করে দিলে তার জন্য একটি অর্থবহ জীবন যাপন সম্ভবপর হয়ে উঠতে পারে
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায় যে, যেসকল ব্যক্তি মধ্যবয়সে বিভিন্ন বুদ্ধিভিত্তিক কাজ (যেমন লেখালেখি, বইপড়া, যন্ত্রসংগীত বাজানো), বিভিন্ন সামাজিক গঠন/সেবামূলক কাজ, Board Game খেলা (দাবা, Cross Word Puzzle) ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান তাদের মাঝে এ রোগ হবার প্রবণতা কম অন্যদিকে যারা অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ রোগে ভোগেন বা ধুমপায়ী তাদের মধ্যে এ রোগ হবার প্রবণতা অপেক্ষাকৃত ভাবে বেশী

উৎসাহের কথা হলো অতিসম্প্রতি আলঝেইমার রোগের উপশমে DONEPEZIL, GALANTAMINE, MEMANTINE, RIVASTIGMINE নামক কিছু ওষুধ আবিস্কৃত হয়েছে এদের কার্যকারীতা শতভাগ না হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এরা রোগ উপশমে আশানুরূপ প্রমাণ রেখেছে 

তবে বাস্তবতা হলো এই যে বার্ধক্যে উপনীত হলে আমরা যে কেউই এমন একটি রোগের শিকার হয়ে উঠতে পারি, তাই আমাদের সকলের উচিত এমন রোগীদের সহানুভুতির দৃষ্টিতে দেখা এবং আমাদের নিজেদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটা সুন্দর  পৃথিবীর পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াস অব্যাহত রাখা

আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য

Wednesday, October 23, 2013

বিষন্নতা ও তার সামাজিক কারণ :

জীবন ও পারিপার্শ্বিক নানা কারণে উদ্ভূত মানসিক চাপ বিষন্নতার জন্য দায়ী সহজভাবে বলতে গেলে, জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত হতে উদ্ভূত মানসিক চাপের কারণেই বিষন্নতার সৃষ্টি হয়আবার কেউ কেউ মনে করেন, এই মানসিক চাপ বিষন্নতার ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না



গবেষকরা দেখেছেন, কোনো শিশু যদি এগারো বছর বয়সের আগে তার মা-বাবার যেকোনো একজনকে হারায় তবে তার বড় হয়ে বিষন্নতা বা অবসাদে ভোগার আশঙ্কা খুব বেশিএ ছাড়া এটা প্রায়ই দেখা যায়, বিশেষ কোনো ক্ষতি হলে বা বিশষ কিছু হারালে মানুষ বিষাদে আক্রান্ত হয় যেমন কোনো নিকটাত্মীয় বা স্বজন হারালে বা মৃত্যু হলে, হঠাৎ বেশি টাকার কোনো লোকসান হলে, চাকরি হারালে বা অবসর নিলে, বিবাহ বিচ্ছেদ বা ভালোবাসায় বিচ্ছেদ হলে, এমনকি পরীক্ষায় অসফল হলেতবে একেক মানুষ একেক কারণে বিষাদগ্রস্ত হয়কোন মানুষ কোন কারণে বিষাদগ্রস্ত হয় এটা নির্ভর করে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন কারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর

# মুক্তির উপায় :-
কাঁদুন প্রাণ খুলে - প্রকাশ যত তীব্র হয়, দুঃখ তত লাঘব হয়ছানার মৃত্যুতে মা হরিণ হৃদয়বিদারক কান্নায় চিৎকার করে তার বেদনা লাঘব করতে চায়তেমনি যারা কাঁদতে পারেন তাদের দুঃখ কখনও স্থায়ী হয় নাএ কারণেই কান্না জরুরিমনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন দুঃখ-বেদনা, মানসিক আঘাত ইত্যাদি দেহে টক্সিন বা বিষাক্ত অণু সৃষ্টি করেআর কান্না এই বিষাক্ত অণুগুলোকে শরীর থেকে বের করে দেয়মানসিক চাপ ভারসাম্য নষ্ট করে আর কান্না ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করেনা কাঁদলে মানসিক চাপ শরীরে থেকেই যায়আমরা অনেক সময় কান্নাকে লজ্জাজনক ভাবি, আবার অনেক মানুষ আছেন যারা কান্নাকে "মেয়েলিপনা" মনে করেনঅথচ কান্না হলো একটি মানবীয় ব্যাপারকান্না সহানুভূতি ও মমত্বকে আকর্ষণ করেঅশ্রু মমত্ব বাড়ায়

# আর্টস থেরাপি :-

বিষাদ থেকে মুক্তির অন্যতম আধুনিক উপায় হচ্ছে আর্ট থেরাপিনিজের কষ্ট নিজের মধ্যে আবদ্ধ রাখার কারণেই মূলত মানুষ বিষাদে ভোগেঅন্তর্মুখী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা নিজেদের কষ্ট কারও সঙ্গে শেয়ার করতে কুণ্ঠা বোধ করেআর এ কারণেই নিজের আঁকা ছবির মধ্যে নিজের কষ্টগুলো শেয়ার করাই হতে পারে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির অন্যতম উপায়এ ক্ষেত্রে ছবির শিল্পমান বা অভিজ্ঞতার কোনো প্রয়োজন নেই

বেন স্কেয়ার্জ নামে এক লোক মানসিক অবসাদে ভুগছিলেনএ সময় তিনি "দ্য ম্যান ইন দ্য বক্স" শিরোনামে একটি ছবি আঁকলেনছবিটি আঁকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন - গ্রীষ্মকালে চরম অবসাদে ভুগছিলাম আমিতখন আমার বয়স মাত্র পনেরোঅত:পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এবং কয়েক সপ্তাহ আঁকাআঁকিতে সময় কাটালাম এবং ছবির মাধ্যমে নিজের অবসাদ ও আবেগ , ইচ্ছা ও অসম্মতি প্রকাশের কাজ শুরু করলামআশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম, আমি আমার বিষন্নতা, আবেগ ইত্যাদি যতটা ছবির মধ্যে ঢেলে দিচ্ছি, ঠিক ততটাই আমার মধ্য থেকে উধাও হচ্ছেএর কিছুদিন পর পড়াশোনার মাধ্যমে আমি বুঝতে পারলাম, এটাকেই আর্ট থেরাপি বলে

সম্প্র্রতি বেশ কয়েকটি গবেষণায় আরও জানা গেছে, সঙ্গীত বা মিউজিক বিষন্নতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেতবে এ ক্ষেত্রে ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক সবচেয়ে কার্যকরএকটি গবেষণায় বিভিন্ন রোগীকে প্রায় তিন মাস প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা বিভিন্ন ধরনের ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিকের মধ্যে রাখা হয়েছেএর মধ্যে যেসব রোগীকে ভালো মানের চিকিৎসা ও মিউজিক থেরাপি দুটোই দেওয়া হয়েছে, তাদের অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে

# খাদ্যাভাস :-

বেশি পরিমাণ ভিটামিন জাতীয় খাবার মানসিক অবসাদ কমাতে ভূমিকা রাখেবিশেষ করে ভিটামিন সি মানসিক চাপ কমায় এবং ভিটামিন বি নার্ভকে স্বাস্থ্যবান রাখেগবেষণায় দেখা গেছে, মাছের তেলে ওমেগা-থ্রি আছেঅনেকের মতে, এটা অ্যান্টি-ডিপ্রেসনার বা মানসিক উদ্বেগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে

# শেষকথা : -

মন খারাপ কিংবা বিষন্নতা মানবজীবনের অপরিহার্য অংশএটা থাকবেইদুঃখ জীবনে আসতেই পারেকিন্তু দুঃখগুলো যেন জমাট বাঁধতে না পারেদীর্ঘস্থায়ী বিষন্নতার প্রভাব মারাত্মকবিষন্নতায় আক্রান্ত একজন ব্যক্তি জীবনের কক্ষপথে লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েন ; বেঁচে থাকার সকল প্রেরণা হারানএমনকি কেউ কেউ অনেক সময় আত্মহত্যা পর্যন্ত করে থাকেনযিনি বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন তিনি একটি বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকেনদার্শনিক কনফুসিয়াস চমৎকারভাবে বলেছেন - মন খারাপ হতেই পারে, কিন্তু মন খারাপ যেন বাসা না বাঁধে মনে

Saturday, October 19, 2013

স্লিপ ওয়াকিং বা ঘুমিয়ে হাঁটা

শবনমকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে তার রুমমেটরা। ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে এখনো ঘুমের ঘোরে রুমের বাইরে চলে যায়, নিজের মনে কথা বলে, কাঁদে, আবার ঘুমিয়ে পড়ে আপনাতেই।
এইদিকে ছোট্ট মেয়ে হৃদির বাবা মায়েরও হয়েছে এমন দুশ্চিন্তা, সে ঘুমের মাঝে হেটে বাড়ির বাইরে চলে যায়, ঘুমিয়ে পড়ে যেখানে সেখানে। আবার ঘুম থেকে উঠে তার কিছুই মনে থাকে না, কি করেছে, কোথায় গিয়েছে কিছুই সে মনে করতে পারে না। কি বিপদ এখন বাড়ির সবার!

শবনম বা হৃদির যে সমস্যার জন্য তাদের বাবা-মা উদ্বিগ্ন তার একটি সুন্দর নাম দিয়েছেন মনোবিদেরাঃ সমনাবুলিজম(Somnambulism) বা ঘুমিয়ে হাঁটা, ইংলিশে স্লিপ ওয়াকিং। আমরা অনেকেই এই শব্দটির সাথে পরিচিত, হয়তো হরহামেশাই ব্যবহার করে ফেলছি শব্দটি কিন্তু জানা হচ্ছে না স্লিপ ওয়াকিং এর মূল বিষয় সম্পর্কে।

যদিও মনোবিদ্যায় স্লিপ ওয়াকিং এর একটি গাল ভরা নাম সমনাবুলিজম(Somnambulism) দেয়া হয়েছে,  তবে আমরা একে স্লিপ ওয়াকিং বলেই আলোচনা করবো আজ। সাধারনত ছোটদের মাঝে দেখা গেলেও বড়রাও আক্রান্ত হয় এটা দ্বারা।

ঘুমের মাঝে হাঁটা যেহেতু তাই আগে ঘুম নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। আমাদের ঘুমের প্রধান দুটি ধাপ রয়েছে। র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট(REM) এবং নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট(Non REM)
ঘুমের প্রথমে আসে নন রেম ঘুম। এটা ৪টি পর্যায়ে বিভক্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে রেম ঘুম যার দুটি উপ-পর্যায় রয়েছে।
রেম ঘুমে চোখের পেশীর সংকোচন বাড়ে, চোখ নাড়াচাড়া করতে থাকে এসময়, নন রেম ঘুমে চোখের পেশীর নাড়াচাড়া কমে আসে। মানুষ স্বপ্ন দেখে রেম ঘুমের সময়, যখন দেখবেন কারো ঘুমের মাঝে তার চোখ নড়ছে, চোখের পাতা কাঁপছে বুঝে নেবেন সে স্বপ্ন দেখছে ওই সময়ে।
আমাদের আলোচ্য স্লিপ ওয়াকিং ঘটে ঘুমের নন রেম পর্যায়ের ৩য় ও ৪র্থ ধাপে।
যারা স্লিপ ওয়াকিং করে থাকেন তারা আর সকলের মতোই ঘুমোতে যান বিছানায়, ঘুমিয়ে পড়েন ঠিক মতোই। কয়েক ঘন্টার মাঝেই শুরু হয় আসল খেলা!! তারা কথা বলা শুরু করেন আপন মনে, হয়তো কাঁদেন বা চিৎকার করেন, উঠে পড়েন ঘুম থেকে। চোখ খুলে তাকান, কিন্তু চেহারা থাকে ভাবলেশহীন, অভিব্যক্তিহীন। কারণ তারা তো আসলে জেগে নেই, চোখ খুলেছেন ঠিকই কিন্তু তার মস্তিস্ক রয়ে গেছে ঘুমের রাজ্যে। তিনি কি করছে, কি বলছেন, কোথায় যাচ্ছেন সব করছেন  নিজের অজান্তে।
হয়তো ঘরের মাঝে হাঁটছে সে, দরজা খুলে যাইরে চলে যাচ্ছে, যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ছে নিজের অগোচরে, কাপড় পরছে বা খুলছে, প্রাত্যহিক অন্যান্য কাজ ও করছে; সবই সেই নন রেম ঘুমের মাঝেই।
এমন সময় তাদেরকে সজাগ করতে গেলে হয়তো অনেকে প্রচণ্ড বিক্ষিপ্ত আচরন করেন, চিৎকার করেন, ধাতস্থ হতে সময় লাগে তাদের।
সকলের মাঝে একটা বিষয়ে মিল থাকে যে তারা ঘুম ভেঙ্গে আর মনে করতে পারেন না ঘুমের মাঝে কি কি করেছেন বা বলেছেন।
কেন হয় এমন আজব ব্যাপার? ঘুমের মাঝে হাটা? আমাদের তো হচ্ছে না, তবে কিছু মানুষের কেন হবে?
এ ব্যাপারে কিছু কারণের কথা বলা হয়েছেঃ

  • খুব ক্লান্ত দেহে বিছানায় গেলে, সারাদিন অধিক খাটখাটুনি হলে,
  • উত্তেজনা, ভয়, মানসিক অস্থিরতা থাকলে,
  • প্রতিদিনের ঘুম যদি হয় অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত,
  • স্লিপ এপনিয়া বা ঘুমের মাঝে বিশেষ ধরনের শ্বাস বদ্ধতা থাকলে,
  • কিছু ঔষধের কারণেও ঘটতে পারে এমন ব্যাপার।

আবার পরিবারে কারো থেকে থাকলে অর্থাৎ বাবা বা মার থেকে থাকলে সন্তানদেরও স্লিপ ওয়াকিং করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

চোখের সামনে কাউকে স্লিপ ওয়াকিং করতে দেখলে অথবা পরিচিত কারো এমন সমস্যা হলে তার থেকে নিষ্ক্রান্ত হওয়ার উপায় জানতে চায় না মন? ধরুন বাড়িতেই কারো ধরা পড়লো এমন ব্যাপার, তাহলে? জেনে রাখা ভালোঃ
প্রথমেই হতে হবে সতর্ক,  একা থাকতে দেয়া ঠিক হবে না এদেরকে। অনেকে দরজা খুলে বাইরে চলে যায়, রেলিং টপকে পরে যায় নীচে অথবা রাস্তায় নেমে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এদের জন্য ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করার সাথে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন যেন বাইরে যেতে না পারে।
হাঁটতে দেখলে তাদেরকে বিছানায় নিয়ে যান, আবার শুইয়ে দিন মমতা মিশিয়ে। প্রয়োজনে ডেকে দিতে পারেন, ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিতে পারেন, এতে বারণ নেই ডাক্তারের।
অনেকের প্রয়োজন হতে পারে কিছু ওষুধের তার ঘুমকে নিয়ন্ত্রনের জন্য, কিছু ওষুধ খেলে স্লিপ ওয়াকিং হতে পারে, এসব ড্রাগ ব্যবহার বন্ধ করে দেখা যায়।
স্লিপ এপনিয়া একটা শ্বাসবদ্ধতার সমস্যা যা ঘুমের মাঝে হয়। স্লিপ এপনিয়ার চিকিৎসা করলে অনেকের স্লিপ ওয়াকিং সমস্যার সমাধান হয় বলে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে।
জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন এ ব্যাপারে কাজে আসতে পারে বলে জানা যায়।

ঘরে রাখা যাবে না কোন ধরনের ধারালো বস্তু, ছুরি, কাঁচি ইত্যাদি। অনেক বাসায় বাচ্চারা বাঙ্ক বিছানায় ঘুমায়, এসব ক্ষেত্রে বাঙ্কে দেয়া যাবে না, শুতে হবে সাধারণ খাটে। বাঙ্কে দিলে উপরে থেকে পড়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
বিছানায় যেতে হবে বেশ আগেই। ঘুম কম হলে অনেকের  এমন সমস্যা হতে পারে, তাই শান্তির ঘুমের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ঘুমের জন্য রাখতে হবে পর্যাপ্ত সময়। প্রতিদিন একই সময়ে বিছানায় যাবার অভ্যাস করতে হবে।
বাচ্চাদের বাবা মায়েরা একটা ডাইরি করতে পারেন, প্রতিদিন বাচ্চা কখন ঘুমোতে যাচ্ছে এবং কখন তার সমস্যার শুরু হচ্ছে সেটা লিপিবদ্ধ শুরু করুন। কিছু দিন গেলে দেখা যাবে একটা প্যাটার্ন মানছে আপনার বাচ্চা। সেই প্যাটার্ন অনুযায়ী স্লিপ ওয়াকিং শুরু হওয়ার ১০-১৫ আগে তাকে উঠিয়ে দিন, ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিন। ৫ মিনিট জাগিয়ে রেখে আবার ঘুম পড়িয়ে দিন। এভাবে অভ্যাস পরিবর্তনের ফলে কাজ হতে পারে।

এত কিছু লেখা দেখে মোটেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। স্লিপ ওয়াকিং খুব কম মানুষেরই হয় এবং এটা মোটেও মারাত্নক কিছু নয়। শুধুমাত্র সচেতনতা এবং যত্নবান হলেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। একসময় নিজে থেকেই ভালো হয়ে যাবে আমাদের শবনম, হৃদির মতো আরো অনেক স্লিপ ওয়াকার। তারাও উপভোগ করবে শান্তির ঘুম, মধুর ঘুম। নিদ্রাদেবীর আশীর্বাদে তাদের কপালেও চাঁদ মামা দিয়ে যাবে টিপ।