Surprising Benefits of Exercise

Physical Exercise Is Going To Boost Your Cardiovascular Health.

Keeping Smile!

When someone is rude, keep a smile on your face. When you stay on the right road and keep your joy, you take away their power.

Yoga postures to relieve menstrual cramps

Many women suffer abdominal cramps during their menstrual cycles. At times, the cramps are combined with shooting or burning sensations in the lower abdomen. Nausea is also common during periods in females.

Health Benefits of Running

The health benefits of running include weight loss, a youthful appearance, prevention of muscle and bone loss, growth hormone enhancement, the prevention of stroke, diabetes, and hypertension. It also lowers high cholesterol level, improves blood clotting, boosts the immune system, reduces stress, and enhances mood.

Showing posts with label মেয়েলী সমস্যা. Show all posts
Showing posts with label মেয়েলী সমস্যা. Show all posts

Tuesday, April 18, 2017

বুকের দুধ কম হওয়ার কারন জেনে নিন !

বুকের দুধ খাওয়াতে বললেই মা-দের একটাই অভিযোগ, বুকে দুধ নাই, দুধ পায় না। আসুন আজ জেনে নেই কি কি কারনে বুকে দুধ কমে যেতে পারে কিংবা তৈরি না হতে পারে।



১। মা যদি অপুষ্টিতে ভোগে। আমাদের দেশে গর্ভবতী মায়েদের খাবার নিয়ে নানান রকম কুসংস্কার আছে। গর্ভাবস্থায় ও দুগ্ধদানকালে মাকে পুষ্টিকর খাবার, একটু বেশি খাবার দিতে হবে।

২। বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে মায়ের অনিচ্ছা। বাচ্চা বুকের দুধ টানলে সেই উত্তেজনা মায়ের শরীরে দুধ তৈরির প্রক্রিয়া চালু করে দেয়। বুকের দুধ তৈরির ব্যাপারে মাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।

৩। সঠিক পদ্বতি এবং অবস্থানে বাচ্চাকে না খাওয়ালে। নির্দিষ্ট পদ্বতি এবং অবস্থানে বাচ্চাখাওয়ার সময় আরাম ও সচ্ছন্দবোধ করে।উল্টাপাল্টা হলে বাচ্চা খেতে পারে না এবং স্তনেব্যাথা, স্তন ফেটে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হয়।

৪। উদ্বেগ বা পারিবারিক অশান্তি। দুশ্চিন্তা,ভয়ভীতি এবং কুসংস্কার। মায়ের ঘুম ঠিক মত নাহওয়া।

৫। ফিডারে করে খাওয়ালে কিংবা চুষনি চুষতে দিলে।নিপল কফিউসন হবে।

৬। কৌটার দুধ (ফর্মুলা) খাওয়ালে। কৌটার দুধ বুকের দুধের চেয়ে বেশি মিষ্টি, তাই বুকের দুধ আর টানবেনা। মিষ্টি পেলে কি আর কেউ তিতা খায়!

৭। মায়ের বড় কোন অসুখ এবং কিছু কিছু ওষুধের কারনে বুকের দুধ কমে যেতে পারে।

৮। মায়ের বুকে দুধ তৈরি হওয়া একটা ‘ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই সিস্টেম’ অনুসরণ করে। অর্থাৎ শিশু যত দুধ টানবে, তত মায়ের মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি উদ্দীপ্ত হয়ে বেশি বেশি প্রলেকটিন হরমোন তৈরি করবে। তত বেশি দুধ উৎপাদিত হবে। বুকের দুধ তৈরির একমাত্র উদ্দীপক বা স্টিমুলাস হলো শিশুর দুধ টানা। তাই যে মায়েরা একেবারে শুরু থেকেই বারবার দুধ দেননি, তাঁদের এই উৎপাদনপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

৯। বুকের দুধ খাওয়ানোর ভুল পদ্ধতিও দুধ তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়। বিশেষ করে নতুন মায়েরা এই সমস্যায় ভোগেন। দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর মাথা ও কাঁধ সমান্তরালে থাকবে, বাঁকা হবে না, দুধের বোঁটার চারপাশে এক ইঞ্চি পর্যন্ত পুরোটা শিশুর মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে হবে।

১০। অনেক সময় মা ভাবেন যে দুধ কম হচ্ছে, কিন্তু আসলে তা ঠিক নয়। লক্ষ রাখুন, শিশু সপ্রতিভ আছে কি না, ওজন বাড়ছে কি না। নবজাতক শিশু দিনে সাত-আটবার প্রস্রাব করে এবং দুই-তিনবার মলত্যাগ করে। দুধ খাওয়ার সময় খেয়াল করুন দুধ গিলে ফেলার শব্দ হচ্ছে কি না বা ঠোঁটের কোণে মুখের ভেতর দুধ দেখা যাচ্ছে কি না। অনেক সময় শিশু দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়ে থাকে, এই সময়ও তাকে দুধ দিতে হবে। প্রয়োজনে কানের পেছনে বা পায়ের নিচে সুড়সুড়ি দিয়ে জাগাতে হবে। যথেষ্ট দুধ তৈরি করতে হলে দিনে অন্তত আট থেকে ১০ বার (দিনের বেলা দুই ঘণ্টা পরপর ও রাতে ৪ ঘণ্টা পরপর) দুধ দিতে হবে।


[আপনাদের সুখী জীবন আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।]

Monday, December 1, 2014

ব্রেস্ট ক্যান্সারঃ প্রাথমিক চেকআপ নিজেই করুন!

ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সার, আমাদের দেশের মহিলাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ক্যান্সার। সাধারণত যেসব মহিলাদের বয়স ৪৫ এর উপরে তারাই বেশি এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক ধাপ মাসটেকটমি (Mastectomy) সার্জারির মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব হলেও যদি আক্রান্ত হওয়ার অনেক পরে ক্যান্সার ধরা পরে তাহলে অধিকাংশ সময়ই এই ক্যান্সারের চিকিৎসা সফল হয়না। এর পিছনে মূলত যেই কারণ গুলো আছেঃ


১) স্তন ক্যান্সার হওয়ার একটি লক্ষণ হল ব্রেস্ট লাম্প (Breast Lump)স্তনে যদি গোটা বা চাকার মত থাকে সেটিই ব্রেস্ট লাম্প। আক্রান্তদের অধিকাংশই জানেন না তাদের এই গোটা রয়েছে। যতদিনে তারা এটি লক্ষ্য করেন, ততদিনে হয়তো অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে!
২) ব্রেস্ট লাম্প লক্ষ্য করার পরেও অনেক মহিলা লজ্জা পেয়ে বা এটিকে গুরুত্বপূর্ন মনে না করে ডাক্তার দেখান না।

নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করার পদ্ধতি (BSE-Breast Self Examination) পুরো বিশ্বেই এখন পরিচিতি পেয়েছে। এই পদ্ধতিতে নিজের বাসায় বসেই আপনি পরীক্ষা করতে পারবেন আপনার ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার আশংকা আছে নাকি। নিয়মিত যদি আপনি এই পরীক্ষা করে থাকেন তাহলে প্রাথমিক ধাপেই আপনি সচেতন হবেন স্তন ক্যান্সারের ব্যাপারে। 

জেনে নিন কিভাবে বাসায় বসেই নিজের চেকআপ করবেনঃ

১ম ধাপঃ
প্রথমেই আয়নার সামনে সোজা হয়ে দাড়ান। এ সময় কাধ সোজা থাকবে এবং দুই হাত কোমরের উপরে রাখুন।
আপনার স্তন লক্ষ্য করে দেখুন। দেখুন দুইটি স্তনই সাধারণ আকার, আকৃতির এবং রঙের নাকি। এটিও লক্ষ্য করুন স্তন দুইটি ফোলা ভাব ও কোন রকম বিকৃতি ছাড়া সমান আকৃতির নাকি।
খেয়াল করুন আপনার-
✭ স্তনে টোল পড়েছে/ ফুলে গিয়েছে/ কুঞ্চিত হয়েছে নাকি
✭ স্তনবৃন্তের জায়গা সরে গিয়েছে নাকি
✭ স্তনবৃন্ত ভেতরে ঢুকে গিয়েছে নাকি
✭ স্তনে র‍্যাশ/ লাল দাগ/ ঘা হয়েছে নাকি উপরের কোনটি ধরা পড়লে ডাক্তার দেখান।

২য় ধাপঃ
এবার হাত দুইটি উপরের দিকে তুলে প্রথম ধাপে যা লক্ষ্য করেছেন আবার তা লক্ষ্য করুন। আয়নার দিকে লক্ষ্য করে দেখুন স্তনবৃন্ত থেকে রস পড়ছে বা পড়তে পারে নাকি। এ রস পানি জাতীয়/ হলুদ রঙের/ দুগ্ধপূর্ণ বা রক্তও হতে পারে।

৩য় ধাপঃ
এবার শুয়ে পড়ুন এবং ডান হাত দিয়ে বাম স্তন ও বাম হাত দিয়ে ড়ান স্তন অনুভব করুন। আপনার হাতের কয়েকটি আঙ্গুল সমান করে বৃত্তাকার গতিতে স্তনের উপর হাল্কা চাপ দিয়ে ঘুরিয়ে দেখুন। পুরো স্তন এভাবে আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন। স্তনবৃন্ত থেকে শুরু করলে আপনি প্রথমে বৃন্তের চারপাশে ছোট করে বৃত্ত তৈরী করুন এবং ক্রমান্বয়ে বৃত্তের আকার বাড়াতে থাকুন ও পুরো স্তন এভাবে চেক করুন। এরপর আপনার কন্ঠাস্থি থেকে শুরু করে তলপেটের আগ পর্যন্ত এবং বগল থেকে শুরু করে স্তনসংকট পর্যন্ত সব জায়গায় বৃত্তাকার গতিতে আঙ্গুল ঘুরিয়ে দেখুন। আপনার এই বৃত্তাকার গতিতে পরীক্ষা করার সময় বুকের সব কলা/টিস্যু(Tissue) অনুভব করতে ভুলবেন না। যখন বুকের উপরে পরীক্ষা করবেন তখন হাল্কা চাপ দিবেন, বুকের মাঝের টিস্যু অনুভব করার জন্য মাঝারি চাপ এবং বুকের নিচের টিস্যু অনুভব করার জন্য দৃঢ় চাপ দিবেন।

৪র্থ ধাপঃ
৩য় ধাপে স্তন যেভাবে পরীক্ষা করেছেন এই ধাপেও সেভাবে পরীক্ষা করবেন কিন্তু এবার বসে বা দাঁড়িয়ে আপনাকে পরীক্ষা করতে হবে। এই পরীক্ষা করার সময় স্তন ভেজা থাকলে সুবিধা হয়। তাই যদি পারেন স্নান করার সময় পরীক্ষাটি করবেন।

আপনার যদি ব্রেস্ট লাম্প হয়ে থাকে এই পরীক্ষার মাধ্যমে তা ধরা পরবে। যদি লাম্প ধরা পরে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন। নিয়মিত এই পরীক্ষা করুন, আপনার কাছের সবাইকেও করতে বলুন।

[আপনাদের সুখী জীবন আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।]

Saturday, September 27, 2014

অকাল গর্ভপাত সম্পর্কে যে ১০টি অজানা তথ্য!

সব গর্ভধারণ নয় মাস (৪০সপ্তাহ) স্থায়ী হয় না এবং সব ক্ষেত্রে শিশুর জন্ম হয় না৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে গর্ভ নিজে নিজেই নষ্ট হয়ে যায়, একে বলা হয় গর্ভপাত বা স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভপাত৷ সাধারণত স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভপাত, কৃত্রিম উপায়ে গর্ভপাত, ওষুধ প্রয়োগে গর্ভপাত, শল্য/যন্ত্র প্রয়োগে গর্ভপাত ইত্যাদি কারণে একটি ভ্রূণ নষ্ট হয়ে থাকে।

চলুন একে একে জেনে নেয়া যাক গর্ভপাত নিয়ে কিছু অজানা বিষয় যা আপনি জানেন না-



✬ সারা বিশ্বে গর্ভপাতের হার আপনার ধারনার চেয়েও বেশি: 
আপনি যদি মনে করে থাকেন গর্ভপাত একটি দুর্ঘটনা তবে অবশ্যই ভুল করবেন, গর্ভপাত অনেক সময় প্রাকৃতিক কারণেও হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে ১৫% মা গর্ভপাতের শিকার।

✬ গর্ভধারণের শুরুর দিকেই গর্ভপাত ঘটার সম্ভাবনা বেশি:
একজন মা গর্ভধারণের শুরুর দিকে সব সময় সাবধান থাকা উচিৎ, কারণ এই সময়েই গর্ভপাত বা মিসকেরেজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সাধারণত ডাক্তাররা হবু বাবা মা কে বলে থাকেন যাতে ২০ সপ্তাহের আগে প্রেগন্যান্সির খবর সবাইকে না বলা হয়, এমনকি গ্রামেও এটি সাংস্কৃতিক ভাবেই প্রচলিত। কারণ, সাধারনত গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহের মধ্যেই গর্ভপাত হবার আশংকা বেশি থাকে। এর পরবর্তীতে রিস্ক কমে আসে।

✬ গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে আপনার অজান্তেইঃ 

আপনি জানেন কি আপনার অজান্তেই গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে? গর্ভধারণের প্রথম ১০ দিনের মাথায়ই আপনার অজান্তেই মিসক্যারেজ হয়ে যেতে পারে। রক্তপাত এর একটা খুব সাধারণ লক্ষণ। নারীরা একে পিরিয়ড ভেবে ভুল করতেই পারেন। কিন্তু যদি কখনো অতিরিক্ত রক্তপাত হয়, তবে ঝুঁকি না নিয়ে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। গর্ভপাত না ঠেকাতে পারলেও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা ও সংক্রমণ এড়াতে পারবেন।

✬ গর্ভপাতে মায়ের কোন দোষ নেইঃ 
আমাদের সমাজে একটি ধারণা রয়েছে মায়ের অসাবধানতায় অকাল গর্ভপাত ঘটে, আসলে এটি হয় মূলত ভ্রুণের অস্বাভাবিকতার কারণে, এটা আগে থেকে নির্ণয় করা কঠিন আর এতে মায়ের কোন দোষ নেই। অতএব, মানসিকতা বদলান।

✬ বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেশি: 
আপনি যদি একটু বয়স্ক হয়ে থাকেন তবে আপনাকে সাবধান হতে হবে। মনে রাখবেন বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে মিসক্যারেজের ঝুঁকি বেশি। কেননা ডিম্বানুর বয়েসের কারণে জিনগত অস্বাভাবিকতার হার বেড়ে যায়।

✬ যৌনতার সাথে সম্পর্ক নেইঃ 
আপনার যৌন জীবন, ব্যায়াম বা নিয়মিত হালকা কাজের সাথে অকাল গর্ভপাতের তেমন কোন সম্পর্কে নেই। তবে একটু সাবধান থাকা ভালো। কারণ, গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে আনপ্রোটেকডেট সেক্স করলে গর্ভপাতের হার বাড়ে।

✬ গর্ভপাত একাধিকবার হতে পারেঃমনে রাখবেন একজন নারীর জীবনে কেবল একবার গর্ভপাত হবে তা কিন্তু নয়! একবার গর্ভপাত হলে আরো গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে গর্ভপাত একবার হলে, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। 

✬ ফার্টিলিটির চিকিৎসা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারেঃ 
যাদের সন্তান হচ্ছেনা মনে করে অতি আগ্রহী হয়ে বিশেষ চিকিৎসা গ্রহণ করে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের সম্ভাবনা অনেক বেশি। সন্তান ধারণের জন্যে বেশি বয়েসে ফার্টিলিটির চিকিৎসা ও ঔষধ সেবনের কারণেও গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

✬ ধূমপান, প্রত্যক্ষ হোক বা পরোক্ষঃ 

প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপানের কারণেও হতে পারে গর্ভপাত। তাই নিজে ধূমপান তো করবেনই না এবং কোন ধূমপায়ীর আশেপাশে থাকা থেকে বিরত থাকুন।

✬ অতিরিক্ত ওজনের কারণে হতে পারে গর্ভপাতঃ 

অতিরিক্ত ওজনের কারণে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি হতে পারে গর্ভপাতও! যেমন ডায়াবেটিস, যা অতিরিক্ত ওজনের কারণেই হয়ে থাকে। এটি গর্ভপাতের একটি অন্যতম প্রধান কারণ।

গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা যেকোন নারীর ক্ষেত্রেই একটি দুঃখ জনক বিষয়। তাই সাবধান থাকুন, সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন আপনার অনাগত অতিথিকেও!



[ আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য, ধন্যবাদ ]

Saturday, August 2, 2014

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা!

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা আমাদের দেশে একটা কমন ব্যাপার 


কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই ব্যথা এড়িয়ে চলা যায়কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে হবেএটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে হবেএতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে

এছাড়া আরেকটা পদ্ধতি আছে- সিজ বাথ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবেপরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতেএভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবেএটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪দিন নিতে হবেশুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়

আরেকটা পদ্ধতি আছে- কেজেল ব্যায়াম এটাও খুব উপকারী এগুলো করলে যোনি মধ্যে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে আবার ঠিকঠাক হয়ে যাবে, ব্যাথাও কমে যাবে

আমাদের দেশের অনেক মেয়েদেরই শারীরিক ফিটনেস ভালো নয় বলে এরকম সমস্যা বেশি হয়একে একে এই পদ্ধতিগুলোর কথা সবাইকে বলে দিনএকজন আরেকজনকে বলে দিনএই অবাঞ্চিত সমস্যা থেকে মুক্ত থাকুক আমাদের নারী

আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।

Monday, March 31, 2014

মেয়েদের শারীরিক একান্ত সমস্যা ও সমাধান !!

আজকে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো মেয়েদের হাঁচি-কাশির সঙ্গে বেগ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যা। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স’।

বাংলাদেশের মেয়েদের কত শতাংশ এ সমস্যায় ভুগছে তার সঠিক পরিসংখ্যান না জানা থাকলেও হাসপাতালে এবং ব্যক্তিগত চেম্বারের অভিজ্ঞতা থেকে অনুমেয় যে এ সংখ্যা একেবারে কম নয়। চিরকালীন স্বভাবজাত লজ্জায় আমাদের মেয়েরা যতক্ষণ পারেন সহ্য করেন, আর যেহেতু এটা জীবন সংহারী কোনো অসুখ নয়, তাই সহজে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন না। কিন্তু ধীরে ধীরে জীবনযাপনের মান নেমে আসতে থাকে।

স্বাভাবিক অবস্থায় যত প্রবল কাশি আর যত জোরেই হাঁচি আসুক না কেন, কখনো প্রস্রাব বেরিয়ে যাবে না। প্রস্রাবের বেগ চাপলেও মানুষ যথাযথ সুযোগ এবং স্থান না পেলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে। কিন্তু যাঁরা ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সে ভুগছেন, তাঁদের হাঁচি, কাশি বা হাসির সঙ্গে প্রস্রাব বেরিয়ে যায়, যার ওপর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। প্রাথমিক অবস্থায় প্রচণ্ড হাঁচি বা প্রবল কাশির সঙ্গে হঠাত্ করে সামান্য প্রস্রাব বেরিয়ে যায়, কিন্তু বয়স এবং অসুখের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সামান্য হাঁচি, কাশি বা হাসিতেই প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে। অবস্থার আরও অবনতি হলে শারীরিক অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে, যেমন—বসা থেকে দাঁড়াতে গেলে, কোনো ভারী জিনিস তুলতে গেলেই প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে, এমনকি অনেক সময় যৌনমিলনের সময়ও প্রস্রাব নির্গত হতে পারে। এ সমস্যা জীবন সংশয়ী নয়, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যত্রতত্র হঠাত্ করে কোনো পূর্ব সতর্কীকরণ ছাড়া প্রস্রাব বের হওয়ার ফলে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য বারবার কাপড় বদলাতে হয়। সমস্যা আরও বেড়ে গেলে অনেককে নিয়মিত স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে হয়। নিয়মিত নামাজ পড়া বা অন্য ধর্মীয় কাজে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া প্রস্রাব দিয়ে ভেজা থাকার জন্য যৌনিপথের আশপাশে ছত্রাক সংক্রমণ ও ঘা হতে পারে। প্রস্রাবে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকে সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে যাওয়া ছেড়ে দেন। একপর্যায়ে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে এবং রোগী বিষণ্ন্নতায় ভুগতে থাকেন। যৌনমিলনের সময় অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব বের হলে তা স্বামী-স্ত্রীর যৌনজীবনে অস্থিরতা ও উত্কণ্ঠা তৈরি করে। যাঁরা নিয়মিত খেলাধুলা বা ব্যায়াম করেন, এ সমস্যায় তাঁদের ক্রীড়ানৈপুণ্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের সঙ্গে প্রস্রাবের অন্যান্য সমস্যা যেমন, বেগ এলে প্রবল তাড়া অনুভব এবং মূত্র ত্যাগে বিলম্বিত করতে না পারা, কিংবা টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই কাপড়ে প্রস্রাব হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসায় যাওয়ার আগে এ সমস্যায় যেসব বিষয়কে ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়, তা একটু জানা যাক। স্থায়ী ঋতুস্রাব বা মেনোপজের ফলে অথবা অন্য কোনো কারণে শরীরে এস্ট্রোজেন নামের হরমোন কমে যাওয়ার জন্য বা যোনিপথে প্রস্রাব বিশেষ করে বিলম্বিত কষ্টকর প্রস্রব এবং যেসব প্রস্রবে ফরসেপস ব্যবহার করা হয় সে ধরনের প্রসবের কারণে, মূত্রাশয় এবং মূত্রনালির স্বাভাবিক অবস্থান রক্ষায় যেসব পেশি কাজ করে সেগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে হঠাত্ হাঁচি, কাশি বা হাসির দমকে মূত্রাশয় ও মূত্রনালির সংযোগস্থল তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নেমে আসে এবং প্রস্রাবের বেগ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সামান্য প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) কাশি বা হাঁপানি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, ধূমপান ইত্যাদি ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া কিছু কিছু ওষুধ যেমন, কাশি বা অ্যালার্জির জন্য ব্যবহূত ওষুধ, মানসিক রোগের কিছু ওষুধ, প্রস্রাব হওয়ার ওষুধ ইত্যাদির কারণেও স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স বেড়ে যেতে পারে।

ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসা নির্ভর করে প্রস্রাব নির্গত হওয়ার মাত্রা এবং এর তীব্রতার ওপর। প্রাথমিক অবস্থায় বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই শুধু রোগের ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার পর রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে রোগীর জীবনাচরণে কিছু পরিবর্তন আনার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়, যেমন—ধূমপান পরিহার করা, অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা, কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু শতকরা পাঁচ ভাগ ওজন কমাতে পারলে স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের ৫০ শতাংশ উন্নতি ঘটে। এ ছাড়া প্রস্রাবের পরিমাণ এবং আবহাওয়ার উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে পরিমিত পানি পান (কখনোই অতিরিক্ত নয়), যেসব পানীয়তে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে যায়, যেমন—চা, কফি, কিছু ফলের রস, বিভিন্ন কোমল পানীয় ইত্যাদি পান করা কমিয়ে দিতে হবে। সাধারণত জীবনাচরণের এসব পরিবর্তনে প্রস্রাব লিকেজের মাত্রা কমে আসে।

এসবেও সমস্যার উন্নতি না হলে রোগীকে একটি ব্যায়াম শেখানো হয়, যেখানে রোগী তার মূত্রদ্বার, যোনিপথ এবং মলদ্বারের চারপাশের মাংসপেশিগুলো (পেরিনিয়াল মাংসপেশি) নিয়মিত বিরতিতে সংকোচন ও প্রসারণ করবে। এ ব্যায়ামের মাধ্যমে পেরিনিয়াল মাংসপেশিগুলোর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে মূত্রাশয় এবং মূত্রনালির সহায়ক পরিপোষণকে শক্তিশালী করা হয়। কিন্তু সমস্যা একটাই, সঠিক নিয়মে সঠিক মাংসপেশির সংকোচন করা এবং একনাগাড়ে দীর্ঘদিন (অন্তত টানা ছয় মাস) চালিয়ে যাওয়া একটু কষ্টকর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু এ ব্যায়ামেই শতকরা ষাট থেকে সত্তর ভাগ উন্নতি হয়।

যেসব রোগীর অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বের হওয়ার মাত্রা অনেক বেশি বা এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ থাকে, তাদের ইউরোডাইনামিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও মূল্যায়ন করে সমস্যার তীব্রতা নির্ণয় করা হয়। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন ধরনের শল্যচিকিৎসার মধ্যে বর্তমানে উন্নত বিশ্বে যৌনিপথে সিনথেটিক টেপ স্থাপনের মাধ্যমে মূত্রনালিকে সহায়তা দেওয়া হয়। এতে হঠাৎ হাঁচি-কাশির সঙ্গে মূত্রাশয় এবং মূত্রনালির সংযোগস্থল স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নেমে আসে না, ফলে নিয়ন্ত্রণহীন প্রস্রাব বেরিয়ে যায় না।

Sunday, January 5, 2014

গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতা ও এর প্রভাব !

মা হওয়ার অনুভুতি সাধারণত স্বর্গীয় বলেই ধরে নেয়া হলেও গবেষণায় দেখা গেছে অন্তত ১০ জনের মাঝে এক ১ জন মা গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন ও এর প্রভাবের শিকার হয় মা ও শিশু দুজনেই। আসুন আমরা আজকে এ সম্পর্কে জানি।


গর্ভকালীন সময়ে মায়ের দেহে হরমোনের যে পরিবর্তন হয় তার কারণে ও অন্যান্য কারণেও মায়ের বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা বা অবসাদ্গ্রস্ততা দেখা দিতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মহিলারা নিজেদের এ ধরণের সমস্যার ব্যাপারে উদাসীন থাকেন। কিন্তু এমনটা যেন না হয়। মনে রাখতে হবে, আপনার দৈহিক সুস্থতার মতোই আপনার মানসিক সুস্থতাও একটি সুস্থ শিশুর জন্মলাভের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই গর্ভাবস্থায় আপনার যদি মনে হয় যে আপনি বিষণ্ণতায় ভুগছেন, দেরী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কি কি বিষয় গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ায়?
১. যদি ইতিমধ্যে আপনি বিষণ্ণতায় অতীতে ভুগে থাকেন বা আপনার পরিবারের কারো এই সমস্যা থেকে থাকে। পূর্বে বিষণ্ণতা না থেকে থাকলেও আপনার পুরোপুরি সম্ভাবনা থাকে গর্ভাবস্থায় এই রোগে আক্রান্ত হবার।
২. সম্পর্কজনিত টানাপড়েন বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্ক ভাল থাকা খুবই জরুরী। এক্ষেত্রে স্বামীরা বিশেষ ভুমিকা পালন করতে পারে। সাধারণ সময়ের চেয়ে এসময় ভবিষ্যৎ শিশু ও তার মায়ের কথা ভেবে স্ত্রীর প্রতি স্নেহ মমতা ভালবাসা পূর্ণ ব্যাবহারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য একথা মনে রাখা উচিৎ।
৩. যদি অক্ষমতাজনিত কারণে গর্ভধারণ করতে সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে গর্ভাবস্থায় মায়েরা এক প্রকারের আতঙ্কে ভোগেন এবং এ থেকেও বিষণ্ণতা সৃষ্টি হতে পারে। কাজেই চেষ্টা করবেন যতটুকু সম্ভব দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার।
৪. পূর্বে যদি কোন শিশু গর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় মারা যায় বা গর্ভপাতের ইতিহাস থাকে।
৫. অতীত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা, হতে পারে তা দৈহিক বা মানসিক বা যে কোন প্রকারের অনাকঙ্খিত স্মৃতি এসময় বেশি পীড়া দেয়। কাজেই চেষ্টা করতে হবে এধরণের কিছু যেন মনে না আসে। সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতে হবে।

কীভাবে বুঝবেন আপনি বিষণ্ণ??
১. অকারণে কোন কিছু ভাল না লাগা।
২. শুন্য অনুভুতি বা ফাঁকা ফাঁকা লাগা।
৩. কোন কিছুতে মননিবেশ করতে ব্যর্থ হওয়া।
৪. ঘুমের সমস্যা হওয়া।
৫. খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন আসা। হতে পারে অতি ভোজন বা খাবারের রুচি নষ্ট হওয়া উভয়ই।
৬. সবসময় কোন কারণ ছাড়াই ক্লান্ত লাগা।
৭. নিজেকে যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ ছাড়াই দোষী ভাবা, মূল্যহীন ভাবা। এবং
৮. হঠাৎ করে মানসিকতার পরিবর্তন। হঠাৎ ভাল লাগা, বেশি বেশি কথা বলা। অকারণে বেশি অস্থির লাগা এমন যদি হয় তবে বুঝতে হবে আপনি "বাইপোলার ডিসঅর্ডার" এ ভুগছেন যার জন্য যত শীঘ্র সম্ভব চিকিৎসা নেয়া অতি জরুরী।

এগুলোর মধ্যে যদি যেকোনো ৩ বা তার বেশি বৈশিষ্ট আপনার মধ্যে ২ সপ্তাহের বেশি অপরিবর্তনীয় অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে আপনি বিষণ্ণতায় ভুগছেন এবং আপনার সাহায্য দরকার।

শিশুর উপর মায়ের বিষণ্ণতার প্রভাবঃ
১. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। বিষণ্ণতায় ভুক্তভোগী মা নিজের ঠিকমত যত্ন নিতে পারে না ফলে শিশুর বৃদ্ধিও বাঁধাগ্রস্থ হয়।
২. মা ও শিশুর মধ্যে যে স্বাভাবিক বন্ধন তা পরিপূর্ণরূপে বিকাশলাভ করতে ব্যর্থ হওয়া।
৩. এইসব শিশুরা সাধারণত জন্মের পরে অন্যান্য শিশুর চেয়ে কম প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ হয়। তারা অন্য স্বাভাবিক শিশুর মতো কথাবার্তা, নড়াচড়ায় দেরী করে এবং অনেক সময় অনেকে ব্যর্থ পর্যন্ত হয়।
৪. শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের একটি বড় অংশের জন্য দায়ি তাদের মায়েদের গর্ভকালীন বিষণ্ণতা।
৫. কাজেই এই ব্যাপারটি আপাতদৃষ্টিতে অনেক সাধারণ মনে হলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে কাজেই সকলেরই উচিৎ এ বিষয়ে সচেতন হওয়া। মনে রাখবেন, বিষণ্ণ মা, বিষণ্ণ শিশু। সুস্থ মা, সুস্থ শিশু। সকলের সুস্থতা কামনা করছি। ধন্যবাদ।

 আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। 

Sunday, December 8, 2013

সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া (Leucorrhoea) এর কারণ ও প্রতিকারঃ

লিউকোরিয়া হচ্ছে সাদা স্রাব। নারীর যোনি থেকে ক্রমাগত সাদা তরলের ক্ষরণ হলে তাকে লিউকোরিয়া বলা হয়। আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলের নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় বেশি।



স্ত্রীলোকের যৌনাঙ্গ (জরায়ুর মুখ ও যোনিপথ) থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় কখনও পিচ্ছিল বা শুধু সাদা স্রাব নির্গত যা যোনিপথকে ভেজা ও পিচ্ছিল রাখে। অল্প পরিমানে সাদা স্রাব কিন্তু স্বাভাবিক। কিন্তু এ সাদা স্রাব যদি পরিমাণে বেশি ও তার সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ যেমনঃ- দুর্গন্ধ, দুধের মতো সাদা, ছানার মতো, শুধু পানির মতো শ্লেষ্মা, রক্ত ও পুঁজ, কখনও দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ ও চুলকানি, জ্বালা-যন্ত্রণা থাকে তখনই মনে রাখতে হবে যে নিশ্চয়ই এর কোন কারণ রয়েছে।

স্বাভাবিক সাদা স্রাব কোন কোন সময় দেখা যায়ঃ-

• মাসিকের আগে ও পরে।
• ওভুলেশনের সময়।
• মিলন অবস্থায় বা তার পরে।
• গর্ভাবস্থায়।
• যারা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খান।
• প্রসবের পরে।
• জন্মের ১-১১ দিনের মধ্যে সদ্যজাত শিশুর সাদা স্রাব তার সঙ্গে খুব সামান্য একটু রক্তের লাইন দেখা দিতে পারে হরমোনের কারণে।
• মাসিক বন্ধ হওয়ার পর (মেনোপজ হলে)।

অস্বাভাবিক সাদা স্রাবের কারণগুলো কী কী?

• যোনিপথে প্রদাহ, যাকে ভ্যাজাইনাইটিস বলে।
• ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনাইটিস।
• ক্যানডিডিয়াসিস বা মনিলিয়ান ভ্যাজাইনাইটিস।
• মেনোপজাল ভ্যাজাইনাইটিস।
• অস্বাস্থ্যকর অবস্থা, কেমিক্যাল ইরিটেন্ট (সাবান, স্যাভলন, ডেটল, অয়েন্টমেন্ট) টাইট আন্ডারওয়্যার, মাস্টারবেশন ইত্যাদি।
• ভ্যালভ্যাল আলসার।
• গনোরিয়া।
• ক্যামাইডিয়া দ্বারা ইনফেকশন হলে।
• আইইউসিডি পরা থাকলে। (২%)
• সারভিসাইটিস।
• সারভাইক্যাল ইরোসন। (২০%)
• কোষ্ঠকাঠিন্য হলে।
• রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে ও খুব রোগা মেয়েদের, কোন সিস্টেমিক ডিজিজ হলে যেমনঃ- অ্যানেমিয়া, ডায়াবেটিস, ম্যালাইটাস, ক্রিমি, কলাইটিস ইত্যাদি।
• মেনোপজের পর।
• মানসিক রোগ যেমন_ দুশ্চিন্তা,অবসাদ, মানসিক অশান্তি ইত্যাদি।
• যারা অনেক বেশি সময় একটানা দাঁড়িয়ে কাজ করেন।
• পুকুরে গোসল করার সময় অপ্রত্যাশিত ভাবে যোনিপথে পানি ঢুকে গেলে।
• জেনিটাল প্রলাপস হলে। (১০%)
• ক্রনিক পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ থাকলে। (২%)
• কৃমি-সুতা কৃমি, ক্রনিক অ্যামিবিয়াসিস থাকলে।
• কোন কারণ ছাড়া (৬%)

যা করতে হবেঃ

• দেরি না করে লজ্জাকে প্রতিহত করে আপনার সমস্যা সমাধানে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন।
• পোশাক পরিধানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সিলেকশনে সাবধানতা অবলম্বন করুন।
• সুতির প্যান্টি ব্যবহার করতে হবে।
• প্রচুর (১০-১২ গ্লাস) পানি প্রতিদিন পান করুন।
• পুষ্টিকর খাবার সঙ্গে ভিটামিনযুক্ত প্রচুর শাকসবজি খেতে হবে।
• নিয়মিত ব্যায়াম করতে থাকুন।
• যোনিতে কোনো প্রকার সেপ্র ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। 
• জন্ম নিরোধক পিল সেবনের পূর্বে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সর্ম্পকে জেনে নিতে হবে।
• মানসিক দুশ্চিন্তা, অবসাদ দূর করতে হবে ও ঠিকমতো ঘুমাতে হবে।
• রোগ নির্ণয়ে ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন।
• অন্যান্য উপসর্গ ও লক্ষণ থাকলেও তা ডাক্তারকে নির্ভয়ে বলুন।

যে কোন ভ্যাজাইনাইটিস হোক না কেন সাবান, ডেটল, স্যাভলন ইত্যাদি অবশ্যই ব্যবহার করবেন না। 
মৃদু গরম পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে ব্যবহার করবেন। 


আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য।

Friday, December 6, 2013

নারীদের স্তন ক্যান্সার থেকে বাঁচতে ৭টি উপায়!


বাংলাদেশে বর্তমানে নারীদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। ফলে নারীদের জন্য আমাদের আজকের ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ নিয়ে বিশেষ এই প্রতিবেদন।
বিগত ২৫ বছর যাবৎ বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমূহে নারীদের স্তন ক্যানসার হওয়ার প্রবণতা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী নানান ক্যান্সারের মৃত্যু হারের মাঝে স্তন ক্যান্সারের কারণে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশী।

যুক্তরাষ্ট্রের স্তন ক্যান্সার চ্যারিটি এর চেয়ারম্যান লাস্টার বার বলেন, “স্তন ক্যান্সার হওয়ার কারণসমূহের মাঝে সাধারণত একজন নারীর জীবন-যাপন প্রণালী বিশেষ ভূমিকা রাখে। আপনি যদি আপনার জীবন-যাপন প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আনেন, তবে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।”
স্তন ক্যানসার থেকে বাঁচতে এখানে ৭টি উপায় উল্লেখ করা হলঃ-
১/ ঘরের কাজ করুনঃ 
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে নারী কাজের মাঝে থাকবে, তার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। ঘরের কাজ বা ব্যায়ামের ফলে আপনার শরীরের চর্বি অনেকটা কমবে। শরীরের বাড়তি চর্বি টেস্টেস্থেরন হরমোন নিঃসরণ ঘটায় যা আপনার শরীরে টিউমার গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। একজন নারীকে অবশ্যই প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে ঘরের কাজে হাত লাগাতে হবে, এতে ২০% স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।
২/ শিশুকে বুকের দুধ পান করানঃ 
আপনি যখন মা হবেন অবশ্যই আপনার শিশুকে নিজের বুকের দুধ পান করাবেন। অনেকেই এটাকে ঝামেলা মনে করে শিশুকে বুকের দুধ না খাইয়ে বাজারের শিশু খাবার কিনে খাওয়ান, ফলে শিশুর শারীরিক বিকাশ না হওয়ার পাশাপাশি মায়ের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অপরদিকে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমবে।
৩/ নারীরা মদ্য পান করবেন নাঃ 
নিয়মিত এলকোহল পানের ফলে নারীর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। এজন্য নারীদের উচিত মদ্যপান থেকে একেবারে বিরত থাকা ।একেবারেই যদি বিরত রাখতে না পারেন, তাহলে এলকোহল জাতীয় পানীয়ের পরিমাণ কম করে গ্রহণ করা উচিত।
৪/ কর্মজীবীরা রাতের শিফটে কাজ পরিহার করুনঃ 
যেসকল নারীরা চাকুরী করেন তারা অবশ্যই সপ্তাহে টানা ৩ দিন রাতের শিফটে কাজ করবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের শিফটে কাজ করা নারীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশী।
৫/ কোলেস্টেরল কমানো: 
খাবারে কম কোলেস্টেরল গ্রহণ করুন। অধিক পরিমাণ কোলেস্টেরল আপনার স্বাস্থ্যের জন্য স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বয়ে আনবে। খেয়াল রাখবেন সব সময় আপনার খাবারে যেন কোলেস্টেরলের পরিমাণ পরিমিত থাকে।
৬/ অস্বাস্থ্যকর কেমিক্যাল ব্যবহার ত্যাগ করুনঃ 
আপনি খাবারে কখনোই কৃত্রিম রং ব্যবহার করবেন না, বাইরের খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যাতে এতে কৃত্রিম রং না থাকে। এছাড়া ওভেনে খাবার গরম করার ক্ষেত্রে প্ল্যাস্টিক কন্টেইনার ব্যবহার পরিহার করুন।
৭/ সূর্যের আলোতে হাঁটুনঃ 
সূর্যের আলো স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে বেশী উপকারী। একজন নারী যদি প্রতিদিন সময় করে রোদে হাঁটেন, তবে তাঁর স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। সূর্যের আলোর সংস্পর্শে মানব শরীর এলে আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি৩ তৈরি হয় যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তবে এক্ষেত্রে স্কিন ক্যান্সারের বিষয়টি মাথায় রেখে পরিমিত পরিমাণে সূর্যের আলোতে হাঁটুন। সকালের দিকে সূর্যের আলোতে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি কম থাকে, ফলে এ সময় সূর্যের আলোতে হাঁটা স্বাস্থ্য সম্মত।
আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।

Thursday, November 14, 2013

ঋতুস্রাব শুরু হবার পূর্ববর্তী লক্ষণ!

কৈশোর থেকে পরিপূর্ণ নারী হয়ে ওঠার জন্য শরীরের ভেতরে ও বাইরে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সের মেয়েদের বিভিন্ন রকম পরিবর্তন হয়অনেক পরিবর্তনের অন্যতম একটি হলো রজঃস্রাব বা ঋতুস্রাব, যা সাধারণত মাসে মাসে হয়তাই এটাকে মাসিক বা পিরিয়ড অথবা সাইকেলও বলা হয়


লক্ষণ ও উপসর্গঃ
১. স্তনের ফুলে ওঠা এবং স্পর্শকাতরতা স্পর্শে ব্যথা লাগা।
২. মাথা ব্যথা।
৩. মাথা ঘোরা।
৪. অবসাদ।
৫. যৌন মিলনের আকাঙ্খায় হন্সাস কিংবা বৃদ্ধি।
৬. খাবারের প্রতি তীব্র আগ্রহ।
৭. গ্যাস হওয়া বা ঢেকুর তোলা এবং ওজন বৃদ্ধি।
৮. একনি হওয়া।
৯. মেজাজের পরিবর্তন, বিরক্তিভাব বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা এবং বিষাদগ্রস্ততা।
১০. ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিণ্য।

 কি করা উচিত?
১. লবন, চিনি, ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যেমন চা, কফি, এবং দুধ দিয়ে তৈরি খাবার ইত্যাদি ঋতুস্রাব হবার এক সপ্তাহ আগে থেকেই বর্জন করে চলুন।
২. আপনার যদি মদ পানের অভ্যাস থাকে সেক্ষেত্রে ঋতুস্রাব হবার এক সপ্তাহ আগে থেকে সেটা বর্জন করুন। মদ পানের দরুন আপনার মাথা ব্যথা, অবসাদ এবং বিষাদগ্রস্ততার তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে।
৩. অল্প অল্প করে একটু পর পর আহার করুন যাতে করে শরীরে রক্তের সাথে চিনির পরিমাণের খুব বেশি ঘাটতি না হয় এবং হঠাৎ করে শরীরে শক্তির হন্সাস না হয়।
৪. ঋতুস্রাব হবার এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রতিদিন বেশি করে ঘুমান এবং নিজেকে আরাম দেবার জন্যে বেশি সময় নিয়ে স্নানও করতে পারেন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?
১. যদি উপরোক্ত পরামর্শগুলো পালন করার পরও লক্ষণগুলো আপনার দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যকলাপ এবং সম্পর্কগুলোতে ক্ষতিকর প্রভাব রাখতে থাকে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
যদিও পিএমএস এর লক্ষণগুলোর প্রতিরোধ করার মতো তেমন কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেই, তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে এই লক্ষণগুলো আপনার দৈনন্দিন কাজ কর্মে বাধার সৃষ্টি করতে পারবে না:-

১. যেসব খাবারের মধ্যে জটিল শর্করা রয়েছে যেমন (আলু, রুটি কিংবা পাসটা ইত্যাদি)।
২. আপনার উপর মানসিক কিংবা শারীরিক চাপ থাকলে নিজেকে চাপ মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। যোগ ব্যায়াম কিংবা ধ্যান চর্চা করতে পারেন।
৩. প্রতিদিন শরীর চর্চা করুন।
৪. যদি আপনার ধুমপানের অভ্যাস থাকে, পরিত্যাগ করুন।

আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।

Saturday, November 9, 2013

গর্ভাবস্থায় মায়ের জন্য কিছু উপদেশ!

একজন মহিলা যখন প্রথম বারের জন্য গর্ভধারন করেন তার কাছে অনেক কিছুই অজানা থাকে, এই সামান্য কিছু অজানা তথ্যের জন্য অনেক ধরনের কুসংস্কার মায়ের উপর চাপিয়ে দেয় অনেকেই। 



এজন্য গর্ভধারনের পরপরই একজন স্ত্রীরোগ চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হওয়া উচিত। এতে যে শুধু মা সুস্থ্য থাকবে তা নয়, গর্ভের শিশুটির নিরাপত্তাও এর সাথে জড়িত। সাধারনভাবে এ সময়টাকে মা’কে অল্প কিছু নির্দেশ মেনে চলতে হয়, নিচে তেমন কিছু নির্দেশ লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করা হলো।

১. খাদ্যঃ মাকে এ সময় পুষ্টিকর, সহজপাচ্য ও অধিক আমিষ বা প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে খাদ্য তালিকায় শাক-সব্জি এমন পরিমানে যেনো রাখা হয় যাতে ভিটামিন এর অভাব না হয়। একজন ৫০ কেজি ওজনের মায়ের জন্য আদর্শ খাবারে নুন্যতম ২৫০০ কিলোক্যালরি শক্তির যোগান থাকতে হবে।

২. বিশ্রাম ও ঘুমঃ একজন গর্ভবতী মাকে একটি সুস্থ্য সন্তান জন্ম দেবার জন্য কিছুটা বাড়তি বিশ্রাম ও ঘুমানোর প্রয়োজন রয়েছে। দিনে ২ ঘন্টা ঘুম সহ দৈনিক নুন্যতম ১০ ঘন্টা ঘুমানো মায়ের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

৩.  কোষ্ঠ্যকাঠিন্যঃ লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন মা এর যেনো কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দেখা না দেয়, এতে গর্ভের সন্তান্টির উপর চাপ পড়তে পারে, এজন্য নিয়মিত মলাশয় খালি করতে হবে। বেশী বেশী শাক-সবজি খেলে এ সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

৪. স্তনঃ এসময় স্তন সামান্য বড় হতে পারে, স্তনের বোটায় ও কিছু পরিবর্তন আসে, স্তন সামান্য টনটন করাটাও স্বাভাবিক। এসব কারন মাথায় রেখে স্তনের বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

৫. যৌন মিলনঃ গর্ভের প্রথম তিন মাসে যৌন মিলন না করাই উত্তম। গর্ভের শেষ ৬ সপ্তাহ ও যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এ নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ ভাবে মিলন করা যেতে পারে।

৬. ভ্রমনঃ সম্ভব হলে গর্ভের প্রথম তিন মাস যে কোনো ধরনের লম্বা ভ্রমন এড়িয়ে চলা উচিত।

৭. টিকাঃ গর্ভের শুরুতেই টিটেনাস এর টিকা নিয়ে নিতে হবে। এই টিকা নেয়ার কারনে সন্তানের কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই বরং না নিলে প্রসবের সময় ঝুকির সম্ভাবনা থেকে যায়।

৮. ধূমপানঃ গর্ভাবস্থায় কোনো অবস্থাতেই মায়ের ধুমপান করা চলবেনা, এমন অভ্যাস থেকে থাকলে সন্তানের ভালোর জন্য ঐ মুহুর্তে তা ত্যাগ করতেই হবে। গর্ভবতী মায়ের সামনে অন্যকেউ ধুমপান করলে তাও শিশুটির ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। যেসব মায়ের মদ্যপানের অভ্যাস আছে তাদের এসময়ে এ অভ্যাসটি থেকেও দূরে থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন শিশুর স্থায়ী ক্ষতির কারন হতে পারে।

৯ গোসল ও পোশাকঃ দৈনিক গোসল করার অভ্যাস করতে হবে। ঢিলে ঢালা আরাম দায়ক পোশাক পরিধান করার জন্য সব চিকিৎসকই মা’দের উপদেশ দিয়ে থাকেন।

১০. বিবিধঃ পায়ে পানি আসা, উচ্চ রক্তচাপ, প্রসাব কমে যাওয়া, পেটের উপর দিকে ব্যথা , মাথা ঘুরানো বা মাথা ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই সাথে সাথে আপনার চিকিৎসক কে জানাবেন।

আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।

Friday, November 8, 2013

প্রি-একলাম্পশিয়া

প্রি-একলাম্পশিয়া গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহ অর্থাত্‌ ৫ মাস পর থেকে দেখা দেয়৷


কারণঃ
*) একবার প্রি-একলাম্পশিয়া হলে
*) প্রি-একলাম্পশিয়া পরিবারে কারো হলে
*) পরিবারে কারো উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
*) যাঁরা বেশি বয়সে মা হন তাদের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
*) উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং নেফ্রাইটিস রোগীদের

লক্ষণঃ
*) রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া৷ রক্তচাপ সাধারণত ১৪০/ঌ০ (মিলিমিটার) এর বেশি থাকে
*) প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন (আমিষ) জাতীয় পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া
*) হাত-পায়ে পানি আসা
*) মাথা ব্যথা
*) অনিদ্রা
*) চোখে ঝাপসা দেখা
*) প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
*) বমি
*) পেটে ব্যথা
*) প্রি-একলাম্পসিয়া হওয়ার শুরুতেই শরীরে ওজন বাড়তে থাকে
*) সপ্তাহে আধা কেজি ওজন বৃদ্ধি পায়

চিকিত্‌সাঃ 
*) প্রি-একলাম্পশিয়া আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত চেকআপ করানো দরকার
*) খাবারের সঙ্গে আলাদা লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে
*) প্রোটিন এবং ক্যালোরি যুক্ত খাবার খেতে হবে
*) পুষ্টিকর নরম খাবার খেতে হবে
*) রাতে গড়ে ৮ ঘণ্টা এবং দিনে ২ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে
*) পা ফুলে গেলে পা দুটো বালিশের উপর উঁচু করে রেখে ঘুমাতে হবে
*) ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ এবং প্রেসারের ওষুধ খেতে হবে
*) রক্তচাপ, ওজনের চার্ট তৈরি করতে হবে
*) প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন যাচ্ছে কি না তার চার্ট করতে হবে
*) বাচ্চার অবস্থাও বারবার দেখতে হবে
*) প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে

সঠিক সময়ে চিকিত্সা না করালে নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে

মায়ের সমস্যাঃ
*) প্রস্রাব না হওয়া অথবা অল্প হওয়া
*) চোখে কম দেখা এমনকি অন্ধ হয়ে যাওয়া
*) বাচ্চা প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া
*) একলাম্পশিয়া বা খিঁচুনি হওয়া

শিশুর সমস্যাঃ
*) বাচ্চা মাতৃগর্ভে মারা যেতে পারে
*) বাচ্চার বৃদ্ধি ঠিকমত হবে না
*) জণ্মের সময় শ্বাসকষ্ট হবে

প্রতিরোধঃ
*) গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত প্রসবপূর্ব চেক-আপের ব্যবস্থা করা
*) গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিকর খাবার ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা

প্রসবপূর্ব চেক-আপের সময় শারীরিক ওজন ও রক্তচাপ, পায়ে পানি আসে কিনা, প্রস্রাবে এলবুমিন যায় কিনা এগুলো পরীক্ষা করা উচিত৷

ল্যাব পরীক্ষাঃ
*) প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা
*) ২৪ ঘণ্টায় প্রস্রাবের প্রোটিন পরীক্ষা
*) রক্তে ইউরিয়া, ইউরিক এ্যাসিড এবং ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ দেখা
*) এসজিপিটি পরীক্ষা
*) পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে বাচ্চার অবস্থা দেখা৷
      

ঔষুধ সেবন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিষ্টার চিকিত্‌সকের পরামর্শ নিন। আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।

Monday, October 21, 2013

গর্ভাবস্থায় মায়ের সাধারণ সমস্যা কিভাবে নিরাময় করা যায়!

গর্ভাবস্থায় মায়ের ছোটখাটো অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ অনেক সময় গর্ভবতী মা সেগুলো কাউকে বলেন না, আবার কখনও কখনও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাতে গুরুত্ব দেন না৷ অথচ এসব সমস্যার সময়মতো উপশম না হলে গর্ভবতীর নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ তাই গর্ভবর্তী মায়ের যেকোন স্বাস্থ্য সমস্যায় তাকে চিকিত্সকের কাছে অথবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত৷


 গর্ভবর্তী মায়ের কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার প্রতিকার ও পরামর্শঃ

*** বমি বমি ভাব বা বমি ***
 দিনের শুরুতেই গর্ভবতীর বমি বমি ভাব হয় বা বমি হয়প্রথম দিকে গর্ভ সঞ্চারের লক্ষণও এটিদিনের অন্য যেকোনো সময়ও বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারেসাধারণত গর্ভকালীন মায়েদের প্রথম তিন মাস পর্যন্ত এ লক্ষণ স্থায়ী হয়গর্ভকালীন মায়েরা তেমন কিছু খেতে পারেন নাযা খান বমি হয়ে যায়কোনো কিছুর গন্ধও সহ্য করতে পারেন নাগন্ধেও বমির উদ্রেক হয়এ সমস্যা হলে অল্প করে ঘন ঘন খাবার খেতে হবেসকালে ঘুম থেকে উঠেই বিস্কুট, টোস্টজাতীয় শুকনো কিছু খাবার খেলেও উপকার পাওয়া যায়তৈলাক্ত খাবার কম খেলেও উপকার পাওয়া যায়বমি খুব বেশি হলে বা সমস্যাটা তিন মাসের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে

*** বুক জ্বলা বা এসিডিটি ***
 গর্ভকালে এ সমস্যাটা অনেকেরই হয়গর্ভকালে প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় বলে এসিডিটি হয়এসিডিটি বা বুক জ্বালা হলেও অল্প করে ঘন ঘন খাবার খেতে হবেতৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া খাবার ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার কম খেতে হবেএকসঙ্গে বেশি খাবার না খেলেও উপকার পাওয়া যায়খাওয়ার সময় পানি কম পান করতে হবেদুই খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে বেশি বেশি পানি পান কতে হবেখাওয়ার পর পরই উপুড় হওয়া বা বিছানায় শোয়া উচিত নয়তাতে বুক জ্বালা বাড়বেচিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা যেতে পারে

*** কোষ্ঠকাঠিন্য ***
 গর্ভকালে প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় বলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারেকোষ্ঠকাঠিন্য একটি কষ্টকর সমস্যাকোষ্ঠকাঠিন্য থেকে অর্শ বা পাইলস এবং মলদ্বার ছিঁড়ে গিয়ে তাতে ক্ষত হতে পারেক্ষত শুকিয়ে মলদ্বার সরু হয়ে যেতে পারেকোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সে জন্য দৈনিক পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবেদৈনিক অন্তত আট গ্লাস চাইআঁশ আছে এমন খাবার খেতে হবে বেশি বেশিশাকসবজি, ফলমূল, বিচিজাতীয় খাবার, ডাল, পূর্ণ দানাশস্য খাদ্য, গমের আটা, ইত্যাদিতে আঁশ বেশি আছেনিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম যেমন হাঁটাহাঁটি করাও কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকারীকোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সাময়িক পরিত্রাণের জন্য গ্লিসারিন সাপোজিটরি ব্যবহার করা যায়

*** অর্শ ও পাইলস ***
 দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে অর্শ হতে পারেঅর্শ হলে পায়খানা করার সময় মলদ্বারের রক্তনালি ছিঁড়ে রক্ত বের হয়মলদ্বারে ব্যথা হয়পাইলসের সমস্যা যেন না হয়, সে জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবেএ জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে, বেশি বেশি আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবেআর অর্শ হয়ে থাকলে মলদ্বারের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে একখণ্ড বরফ টিস্যুতে বা বাপড়ে পেঁচিয়ে মলদারে ধরে রাখলে উপকার পাওয়া যাবেএকটা পাত্রে হালকা গরম পানি দিয়ে দিনে কয়েকবার তাতে কিছুক্ষণ বসে থাকলেও উপকার পাওয়া যাবেচিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা যেতে পারে

*** ঘন ঘন প্রস্রাব ***
 গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হয় এবং প্রস্রাবের থলিতে বাড়তি চাপ প্রয়োগ করেএ কারণে প্রস্রাবের থলি পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়সে কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়এ জন্য দুশ্চিন্তা করার কিছু নেইঘন ঘন প্রস্রাব হয় বলে পানি কম পান করা উচিত নয়; বরং পর্যাপ্ত পানিই পান করতে হবেতবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রস্রাব পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে ইনফেকশন আছে কি না বা ডায়াবেটিস আছে কি না তা দেখার জন্যথাকলে সেইমতো চিকিৎসা নিতে হবে

*** প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা ***
 সামান্য কাশি হলে বা সামান্য ভারী কিছু ওঠানোর সময় প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারাবিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এ সমস্যা দেখা দেয়প্রস্রাবের এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রস্রাবের রাস্তা ও মলদ্বারের আশপাশের মাংসপেশির ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যাবে

*** নিম্নাঙ্গ বা পায়ের পেশিতে খিঁচুনি ও ব্যথা ***
 সাধারণত গর্ভাবস্থার দ্বিতীয়ার্ধে এবং বিশেষ করে রাতের বেলায় হাঁটুর নিচে পায়ের পেছনের পেশিতে (কাফ মাসল) খিঁচুনি ও ব্যথা হয়শোবার আগে কাফ মাসলের ব্যায়াম করলে পেশির খিঁচুনি হওয়ার আশঙ্কা কমেআর খিঁচুনি হলে পায়ের আঙুলগুলো হাঁটুর দিকে বাঁকা করে টান টান করে কাফ মাসলের স্ট্রেচিং ব্যায়াম করতে হবেতাতে খিঁচুনি কমবেবিছানা থেকে উঠে একটু হাঁটলেও খিঁচুনি ও ব্যথা কমতে পারে

*** নিম্নাঙ্গের বা পায়ের শিরা ফুলে আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া ***
 গর্ভাবস্থায় বড় হয়ে যাওয়া জরায়ু পায়ের দিক থেকে রক্ত ফিরে যাওয়ার পথে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করেতাই অনেকের ক্ষেত্রে নিম্নাঙ্গের শিরাগুলো কিছুটা ফুলে যায় এবং আঁকাবাঁকা হয়এরূপ যেন না হয়, সে জন্য বা এমন হয়ে গেলে বেশিক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে না থেকে মাঝেমধ্যে একটু পায়চারি করার অভ্যাস করতে হবেহাঁটাহাঁটির অভ্যাস করতে হবেঢিলেঢালা কাপড় পরতে হবেবিশ্রাম নেওয়ার সময় পা দুটো সামান্য উঁচুতে রাখতে হবেতবে এক পায়ের ওপর আরেক পা উঠিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা উচিত হবে না

*** পিঠে বা কোমরে ব্যথা ***
 গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন বেড়ে যায়তা ছাড়া অস্থিসন্ধির লিগামেন্টগুলোও কিছুটা নরম ও নমনীয় হয়এসব করণে পিঠে ও কোমরে ব্যথা হতে পারেএ সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবেদাঁড়ানো বা বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখতে হবেএকটানা বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে শুয়ে বিশ্রাম নিতে হবেউঁচু হিলের জুতা ব্যবহার না করে নিচু হিলের জুতা ব্যবহার করতে হবেনিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে

ঔষুধ সেবন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিষ্টার চিকিত্সকের পরামর্শ নিন৷

[[আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ]]

Sunday, October 20, 2013

নারীর একান্ত সমস্যা!

আজকে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো মেয়েদের হাঁচি-কাশির সঙ্গে বেগ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যা। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স। বাংলাদেশের মেয়েদের কত শতাংশ এ সমস্যায় ভুগছে তার সঠিক পরিসংখ্যান না জানা থাকলেও হাসপাতালে এবং ব্যক্তিগত চেম্বারের অভিজ্ঞতা থেকে অনুমেয় যে এ সংখ্যা একেবারে কম নয়। চিরকালীন স্বভাবজাত লজ্জায় আমাদের মেয়েরা যতক্ষণ পারেন সহ্য করেন, আর যেহেতু এটা জীবন সংহারী কোনো অসুখ নয়, তাই সহজে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন না। কিন্তু ধীরে ধীরে জীবন যাপনের মান নেমে আসতে থাকে।

স্বাভাবিক অবস্থায় যত প্রবল কাশি আর যত জোরেই হাঁচি আসুক না কেন, কখনো প্রস্রাব বেরিয়ে যাবে না। প্রস্রাবের বেগ চাপলেও মানুষ যথাযথ সুযোগ এবং স্থান না পেলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে। কিন্তু যাঁরা ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সে ভুগছেন, তাঁদের হাঁচি, কাশি বা হাসির সঙ্গে প্রস্রাব বেরিয়ে যায়, যার ওপর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। প্রাথমিক অবস্থায় প্রচণ্ড হাঁচি বা প্রবল কাশির সঙ্গে হঠাত্ করে সামান্য প্রস্রাব বেরিয়ে যায়, কিন্তু বয়স এবং অসুখের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সামান্য হাঁচি, কাশি বা হাসিতেই প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে। অবস্থার আরও অবনতি হলে শারীরিক অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে, যেমন—বসা থেকে দাঁড়াতে গেলে, কোনো ভারী জিনিস তুলতে গেলেই প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে, এমনকি অনেক সময় যৌনমিলনের সময়ও প্রস্রাব নির্গত হতে পারে। এ সমস্যা জীবন সংশয়ী নয়, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
যত্রতত্র হঠাত্ করে কোনো পূর্ব সতর্কীকরণ ছাড়া প্রস্রাব বের হওয়ার ফলে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য বারবার কাপড় বদলাতে হয়। সমস্যা আরও বেড়ে গেলে অনেককে নিয়মিত স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে হয়। নিয়মিত নামাজ পড়া বা অন্য ধর্মীয় কাজে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া প্রস্রাব দিয়ে ভেজা থাকার জন্য যৌনিপথের আশপাশে ছত্রাক সংক্রমণ ও ঘা হতে পারে। প্রস্রাবে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকে সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে যাওয়া ছেড়ে দেন। একপর্যায়ে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে এবং রোগী বিষণ্ন্নতায় ভুগতে থাকেন। যৌনমিলনের সময় অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব বের হলে তা স্বামী-স্ত্রীর যৌনজীবনে অস্থিরতা ও উত্কণ্ঠা তৈরি করে। যাঁরা নিয়মিত খেলাধুলা বা ব্যায়াম করেন, এ সমস্যায় তাঁদের ক্রীড়ানৈপুণ্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের সঙ্গে প্রস্রাবের অন্যান্য সমস্যা যেমন, বেগ এলে প্রবল তাড়া অনুভব এবং মূত্র ত্যাগে বিলম্বিত করতে না পারা, কিংবা টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই কাপড়ে প্রস্রাব হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসায় যাওয়ার আগে এ সমস্যায় যেসব বিষয়কে ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়, তা একটু জানা যাক। স্থায়ী ঋতুস্রাব বা মেনোপজের ফলে অথবা অন্য কোনো কারণে শরীরে এস্ট্রোজেন নামের হরমোন কমে যাওয়ার জন্য বা যোনিপথে প্রস্রাব বিশেষ করে বিলম্বিত কষ্টকর প্রস্রব এবং যেসব প্রস্রবে ফরসেপস ব্যবহার করা হয় সে ধরনের প্রসবের কারণে, মূত্রাশয় এবং মূত্রনালির স্বাভাবিক অবস্থান রক্ষায় যেসব পেশি কাজ করে সেগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে হঠাত্ হাঁচি, কাশি বা হাসির দমকে মূত্রাশয় ও মূত্রনালির সংযোগস্থল তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নেমে আসে এবং প্রস্রাবের বেগ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সামান্য প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) কাশি বা হাঁপানি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, ধূমপান ইত্যাদি ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া কিছু কিছু ওষুধ যেমন, কাশি বা অ্যালার্জির জন্য ব্যবহূত ওষুধ, মানসিক রোগের কিছু ওষুধ, প্রস্রাব হওয়ার ওষুধ ইত্যাদির কারণেও স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স বেড়ে যেতে পারে।
ইউরিনারি স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের চিকিৎসা নির্ভর করে প্রস্রাব নির্গত হওয়ার মাত্রা এবং এর তীব্রতার ওপর। প্রাথমিক অবস্থায় বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই শুধু রোগের ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার পর রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে রোগীর জীবনাচরণে কিছু পরিবর্তন আনার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়, যেমন—ধূমপান পরিহার করা, অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা, কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু শতকরা পাঁচ ভাগ ওজন কমাতে পারলে স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্সের ৫০ শতাংশ উন্নতি ঘটে। এ ছাড়া প্রস্রাবের পরিমাণ এবং আবহাওয়ার উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে পরিমিত পানি পান (কখনোই অতিরিক্ত নয়), যেসব পানীয়তে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে যায়, যেমন—চা, কফি, কিছু ফলের রস, বিভিন্ন কোমল পানীয় ইত্যাদি পান করা কমিয়ে দিতে হবে। সাধারণত জীবনাচরণের এসব পরিবর্তনে প্রস্রাব লিকেজের মাত্রা কমে আসে।
এসবেও সমস্যার উন্নতি না হলে রোগীকে একটি ব্যায়াম শেখানো হয়, যেখানে রোগী তার মূত্রদ্বার, যোনিপথ এবং মলদ্বারের চারপাশের মাংসপেশিগুলো (পেরিনিয়াল মাংসপেশি) নিয়মিত বিরতিতে সংকোচন ও প্রসারণ করবে। এ ব্যায়ামের মাধ্যমে পেরিনিয়াল মাংসপেশিগুলোর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে মূত্রাশয় এবং মূত্রনালির সহায়ক পরিপোষণকে শক্তিশালী করা হয়। কিন্তু সমস্যা একটাই, সঠিক নিয়মে সঠিক মাংসপেশির সংকোচন করা এবং একনাগাড়ে দীর্ঘদিন (অন্তত টানা ছয় মাস) চালিয়ে যাওয়া একটু কষ্টকর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু এ ব্যায়ামেই শতকরা ষাট থেকে সত্তর ভাগ উন্নতি হয়।
যেসব রোগীর অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বের হওয়ার মাত্রা অনেক বেশি বা এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ থাকে, তাদের ইউরোডাইনামিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও মূল্যায়ন করে সমস্যার তীব্রতা নির্ণয় করা হয়। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন ধরনের শল্যচিকিৎসার মধ্যে বর্তমানে উন্নত বিশ্বে যৌনিপথে সিনথেটিক টেপ স্থাপনের মাধ্যমে মূত্রনালিকে সহায়তা দেওয়া হয়। এতে হঠাৎ হাঁচি-কাশির সঙ্গে মূত্রাশয় এবং মূত্রনালির সংযোগস্থল স্বাভাবিক অবস্থান থেকে নেমে আসে না, ফলে নিয়ন্ত্রণহীন প্রস্রাব বেরিয়ে যায় না।